| 1. প্রেক্ষাপট : সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিনির্মানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং সুশাসন সুসংহতকরণে সচেষ্ট। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি কার্যকর, দক্ষ এবং গতিশীল প্রশাসনিক ব্যবস্থা একান্ত অপরিহার্য বলে সরকার মনে করে। সে প্রেক্ষিতে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নেয়নর জন্য ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৪৮টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের সাথে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৪৮টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থাসমুহ, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে মন্ত্রণালয়/বিভাগ, আওতাধীন দপ্তর/সংস্থার পাশাপাশি বিভাগীয়/আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের কার্যালয় সমূহ ও ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৫১টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ, আওতাধীন দপ্তর/সংস্থা, জেলা পর্যায়ের কার্যালয় সমুহের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় সমুহ পর্যন্ত বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। সমবায়কে উন্নয়নমুখী ও টেকসই করার জন্য সমবায় অধিদপ্তরের কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ভিত্তি প্রস্তুতের ক্ষেত্রে উপজেলা সমবায় কার্যালয় কালিহাতী টাঙ্গাইল এর বিগত তিন বৎসরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে । কর্মকর্তাগণের উদ্ভাবনী প্রয়াসের ফলে সমবায়কে আরও গণমানুষের সংগঠনে পরিণত করতে ও এর গুণগত মান উন্নয়নে সারাদেশে উৎপাদনমুখী ও সেবাধর্মী সমবায় গঠন, সমবায় উদ্যোক্তা সৃষ্টির কৌশল অবলম্বন, সমবায় পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়। বিগত তিন অর্থবছরে অর্থাৎ ২০১৯-২০২০ সনে ২৩০ টি, ২০২০-২০২১ সনে ৯৭টি এবং ২০২১-২০২২ সনে ১০৩ কার্যকর সমবায় সমিতির নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। ভ্রাম্যমাণ টিমের মাধ্যমে ১০০ জন সমবায়ীকে চাহিদা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। সমস্যা ও চ্যালেঞ্জসমুহ : উন্নয়নমুখী ও টেকসই সমবায় গঠনের মাধ্যমে সমবায় কার্যালয়, কালিহাতী, উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কালিহাতী উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের চ্যালেঞ্জ বহুবিধ। এ উপজেলায় নিবন্ধিত সমবায় এর সংখ্যা ২৬০ টি (সিআইজি সহ) তন্মধ্যে ১১৬টি কার্যকর ও ১৪৪ টি অকার্যকর সমবায় সমিতি রয়েছে। নানা শ্রেণি ও পেশার সম্মিলনে তৈরী হওয়া বৈচিত্রময় কার্যক্রমে পূর্ণ বিপুল সংখ্যক সমবায় সমিতিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য পরিদর্শন, নিরীক্ষাসহ অন্যান্য বিধিবদ্ধ পদ্ধতি ব্যবহার করে নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সমবায়ীগণের চাহিদা পূরণে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান এ সময়ের অন্যতম দাবী। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় রুটিন কাজের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া মাঠপর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্প না থাকায় সমবায়কে ব্যাপকভিত্তিক উন্নয়নমুখী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা যাচ্ছে না। ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা : সমবায় এর সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য নতুন সমিতি নিবন্ধন ও অকার্যকর হয়ে পড়া সমিতি সমুহকে পুনঃকার্যকর করা। পাশাপাশি উপজেলাভিত্তিক নির্দিষ্ট সংখ্যক সমবায় সমিতি চিহ্নিত করে উৎপাদনমুখী সমিতিতে রূপান্তর, উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের নাগরিক সেবা সহজ এবং ট্রেড ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান করার মাধ্যমে সমবায়ী উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও স্ব-কর্মসংস্থানের পথ সুগম করাও অন্যতম লক্ষ্য। সমবায়ের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের নিকট সুলভ মূল্যে পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে সমবায় পণ্যের ব্রান্ডিং, বাজারজাতকরণ, সমবায়ের মাধ্যমে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, সুবিধাবঞ্চিত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মহিলাদের সরাসরি ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক ও আর্থিক বৈষম্য হ্রাস এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য নতুন প্রকল্প/কর্মসূচি গ্রহণের নিমিত্ত সমবায় অধিদপ্তরে প্রকল্প/কর্মসূচীর প্রস্তাব প্রেরণ করা হবে। এছাড়াও জনসংখ্যার অধিক্য, পশ্চাদপদ, অবহেলিত, দারিদ্রপীড়িত এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যার কর্মসংস্থানের অভাব দূরীকরণে উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। 2023-2024 অর্থ বছরের সাম্ভব্য প্রধান অর্জনসমুহ : ক) ০১ টি উৎপাদনমুখি সমবায় সংগঠন করা। খ) ১০০ জনকে চাহিদাভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ প্রদান। গ) বার্ষিক নির্বাচনী ক্যালেন্ডার মোতাবেক ১০০% সমবায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা। ঘ) ধার্য্যকৃত অডিট সেস ও সমবায় উন্নয়ন তহবিল ১০০% আদায়। ঙ) বরাদ্দকৃত সকল সমিতির নিরীক্ষা কাজ সম্পাদন। চ) ৩০০ জন সমবায়ীর আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি। | |